নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর উপজেলা-এর আমদিয়া ইউনিয়নের ভূইয়ম গ্রামে গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে এক রক্তাক্ত ও দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা। সাবেক অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক মরহুম আলহাজ্ব মো. লুৎফুল কবির (ছেলমান) বিপিএম’র গ্রামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। বর্তমানে বাড়িটিতে বসবাসরত তার বোন ফারহানা ইয়াসমিন দিপ্তি (৪৫) জানান, ডাকাত দলের দুই সদস্য তার কক্ষে ঢুকে মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ডাকাতরা তার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে।
ডাকাতরা আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ টাকা, ২টি মোবাইল ফোন এবং ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা হিসেবে ৪ ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। নগদ অর্থসহ মোট লুট হওয়া সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ লক্ষ ৪০ হাজার টাকারও বেশি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আহতের চিৎকারে আশপাশের মানুষ জেগে ওঠে। স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করা হলে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারহানা ইয়াসমিন দিপ্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তার মাথায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নরসিংদী থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। মামলার স্বার্থে ভুক্তভোগী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারো নাম প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন, ডাকাত দলের ২ থেকে ৩ জনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।