কেশবপুর (যশোর)প্রতিনিধি :
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অধ্যাপক মোক্তার আলী। দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করছেন।
অধ্যাপক মোক্তার আলী নির্বাচনী ইশতেহারে কেশবপুরের সামগ্রিক উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তার প্রতিশ্রুতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ।
ইসলামি মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও ন্যায়ভিত্তিক মানবিক সমাজ গড়ে তোলা।বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন।সকল শ্রেণির শ্রমিক ও হতদরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন। কৃষকদের যথাযথ সেবা ও সুবিধা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক কৃষিখামার ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ। সরকারি বরাদ্দ ও প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ। প্রশাসনিক সেবাসমূহ জনগণের জন্য সহজলভ্য করা।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলা। সুস্থ সংস্কৃতি, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতিমূলক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, কেশবপুরের আপামর জনসাধারণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের উৎকর্ষ সাধন আমার প্রধানতম লক্ষ্য। আপনারা আমাকে সুযোগ দিলে কেশবপুরকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত উপজেলায় রূপান্তরিত করব।
কেশবপুরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অধ্যাপক মোক্তার আলীর প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কৃষিখাতের সঠিক ব্যবহার ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা। অধ্যাপক মোক্তার আলীর ঘোষিত ইশতেহার এসব সমস্যাকেই গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে কৃষক সমাজেও তার অঙ্গীকারগুলো নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যশোর-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায় সব সময়ই ত্রিমুখী বা বহুমুখী হয়ে থাকে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিকল্প শক্তিও মাঠে সক্রিয় থাকে। তাই অধ্যাপক মোক্তার আলীর প্রতিশ্রুতিগুলো তাকে কতটা এগিয়ে নেবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে জনগণের সাড়া ও সংগঠনের সক্রিয়তার ওপর।
অবশেষে বলা যায়, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের ভোটাররা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রত্যাশা করেন। অধ্যাপক মোক্তার আলীর প্রতিশ্রুতিগুলো সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন কিনা—তা স্পষ্ট হবে ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতা ও ফলাফলের মাধ্যমে।