নিজস্ব প্রতিবেদক:
“এসব শিশুরা কারও করুণা চায় না; তারা নাগরিক হিসেবে তাদের প্রাপ্য অধিকার চায়।”— আন্তর্জাতিক পথশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরে পথশিশু হাসান মুসাফির। কনসোর্টিয়াম ফর স্ট্রিট চিলড্রেন (সিএসসি)-এর ঘোষিত “শাস্তি নয়, সুরক্ষা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় চারদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হলো আন্তর্জাতিক পথশিশু দিবস ২০২৬।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান আজ রবিবার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
বর্ণাঢ্য র্যালি ও সংহতি
দিবসের শুরুতেই সকাল ১১টায় শাহবাগ থানা গেট থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি টিএসসি মোড় প্রদক্ষিণ করে জাতীয় জাদুঘরে এসে শেষ হয়। এতে সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুসহ প্রায় ৪০০ জন শিশু অংশগ্রহণ করে। শিশুদের সাথে সংহতি জানাতে যোগ দেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, মডেল ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভা ও মূল প্রবন্ধ
র্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন লিডোর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে লিডোর সুবিধাভোগী শিশু হাসান মুসাফির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে, যেখানে পথশিশুদের জন্মনিবন্ধন, শিক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান অন্তরায়গুলো তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মাননীয় সংসদ সদস্য।
মিস নাতালি ম্যাককলি, প্রধান শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা, ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
অমিত দেব থাপা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কেএফসি।
মুকিত জাকারিয়া ও ত্রপা মজুমদার, বিশিষ্ট অভিনয়শিল্পী।
রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বি এম মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, “বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চললেও পথশিশুরা আজও বঞ্চনা ও সহিংসতার শিকার। পারিবারিক ভাঙন এদের রাস্তায় আসার অন্যতম প্রধান কারণ।” তিনি শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
লিডোর নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হোসেন বলেন, “পথশিশুদের জীবনে টেকসই পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।”
সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
অনুষ্ঠানে একসময়ের পথবাসী কিন্তু বর্তমানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ১০ জন সফল শিশুকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া লিডো পিস হোমের শিশুদের পরিবেশনায় একটি মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের বিমোহিত করে। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রামাণ্যচিত্র “Where the Kids Have No Name” প্রদর্শিত হয়।
চারদিনব্যাপী কার্যক্রমের ইতি
উল্লেখ্য যে, এই দিবসের অংশ হিসেবে গত ৮ এপ্রিল লিডোর ‘ইয়াং চেঞ্জমেকার্স টিম’ সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করে পথশিশুদের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বারোপ করে। চারদিনের এই উৎসবে ঢাকার প্রায় ৫০০ শিশু চিত্রাঙ্কন, নাটক ও খেলাধুলায় মেতে ওঠে, যা তাদের মানসিক বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছন।